October 13, 2026, 7:35 pm

প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে এপিসিএস; প্রথম ইউনিটে চালু ওআইএসএস, বিশ্লেষণ করবে ৩৬০টি সিস্টেমের তথ্য
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ব্যবস্থার আওতায় ৪৩টি সিস্টেমের প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনপ্রক্রিয়ার সাত হাজারের বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি, প্রথম ইউনিটে সংযুক্ত করা হয়েছে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস), যা পরিচালনপ্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের সহায়তা করবে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মিডিয়া উইং মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের নির্মিত কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ওআইএসএস প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহ করা এপিসিএস বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন পরিচালনপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের বিভিন্ন প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ব্যবস্থাটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনগত নির্ভরযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে রোসাটম।
এ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ওআইএসএস। বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তির সহায়তায় আরএএসইউ এটি তৈরি করেছে। ডিজিটাল টুইন বলতে বাস্তব কোনো যন্ত্র, ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার ডিজিটাল প্রতিরূপকে বোঝায়, যা সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ ও পরিচালনগত পরিস্থিতি মূল্যায়নে সহায়তা করতে পারে। রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ওআইএসএস ইতোমধ্যে সংযুক্ত হয়েছে এবং ইউনিটটির স্টার্টআপ কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ওআইএসএস ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে অপারেটরদের করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিতে এতে ৮০টির বেশি নির্দেশিকা রয়েছে। জটিল পরিচালনগত তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে ব্যবস্থাটি অপারেটরদের দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের ভাষ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প। একই সঙ্গে আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি একটি অগ্রণী উদ্যোগ। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ওআইএসএস বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমানো, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।
জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল শাখা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।